বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আর মাত্র এক ম্যাচ! মেসির বিদায়ী ম্যাচের জার্সিতে বিশেষ চমক মোরেলগঞ্জে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন কুড়িগ্রামে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর : তিন প্রজন্মের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন সংলাপ বন্ধ তেলের খরচই উঠছে না, গোলাপি বাসে প্রতিদিন লোকসান ধানমন্ডি লেক থেকে মার্কেটিং কনসালটেন্টের মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়িয়েও ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান : রিজভী বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি ঠেকাতে চট্টগ্রাম পুলিশের নজরদারি জ্বালানির পর বাসভাড়া বাড়ল, কিলোমিটারে ১৭ পয়সা জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেন তারেক : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা গ্রেপ্তার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক আলীমুল আমীন গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের দাফন সম্পন্ন বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার শঙ্কা তথ্য পাচারের সন্দেহে ডিএমপির থানার রাইটারদের গণবদলি প্রথমবার জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী ৫৬ দিনের মাথায় ভিসি বদল, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন জ্বালানি সংকটে ক্রেতা হারানোর শঙ্কা পোশাক শিল্পে
Notice :

শ্রাবণের জলে নিকলী-মিঠামইন হাওরে হারিয়ে যান

বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা মানেই প্রকৃতির নতুন রূপ। চারপাশে পানি, দিগন্তজোড়া জলরাশি, নৌকার ছুটে চলা আর হাওরের বুকজুড়ে শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে এ সময়টায় বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল হয়ে ওঠে অনন্য। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের নিকলী ও মিঠামইন হাওর বর্ষাকালে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে হয়ে উঠতে পারে দারুণ এক গন্তব্য।

বছরের অন্য সময় হাওরাঞ্চলের যে চেহারা দেখা যায়, বর্ষায় তা পুরোপুরি বদলে যায়। ছোট-বড় বিল, নদী ও জলাভূমিগুলো পানিতে একাকার হয়ে বিশাল জলরাশির সৃষ্টি করে। দূর থেকে তাকালে মনে হতে পারে, সামনে যেন বিস্তৃত কোনো সমুদ্র। এর সঙ্গে যোগ হয় খোলা হাওরের শীতল বাতাস ও ঢেউ যা শহুরে জীবনের ক্লান্তি অনেকটাই ভুলিয়ে দিতে পারে।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা বর্ষাকালে যেন পানির রাজ্যে পরিণত হয়। চারদিকে অথই জল, তার মাঝেই স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। এই সময় নৌকাই হয়ে ওঠে চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

হাওরে ঘুরতে গেলে চোখে পড়বে নৌকায় স্থানীয় মানুষের যাতায়াত, মাঝিদের মাছ ধরার ব্যস্ততা কিংবা জলের বুক চিরে ছুটে চলা ছোট-বড় নৌযান। চাইলে হাওরের তাজা মাছ দিয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজনও করতে পারেন। কোথাও কোথাও জেগে ওঠা চর এবং তার চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যও ভ্রমণকে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

হাওর ভ্রমণের পাশাপাশি নিকলীতে ঘুরে দেখা যায় গুরই শাহি জামে মসজিদ ও পাহাড় খাঁর মাজারসহ স্থানীয়ভাবে পরিচিত বিভিন্ন স্থাপনা।

বর্ষায় নিকলী হাওর ঘুরে দেখার উপযুক্ত সময় সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর। বর্ষাকালে প্রায় ২১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নিকলী উপজেলার বড় একটি অংশ পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এ সময় হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নৌকা বা ট্রলারই সবচেয়ে কার্যকর বাহন।

নিকলী হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জে পৌঁছানো যায়। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চাইলে একদিনের পরিকল্পনাতেও নিকলী ঘুরে আসা সম্ভব।

বাসে গেলে প্রথমে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড অথবা কিশোরগঞ্জ সদরে যেতে হবে। সেখান থেকে ইজিবাইক কিংবা অটোরিকশায় নিকলী হাওরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পৌঁছানো যায়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব আনুমানিক ২৫ থেকে ২৭ কিলোমিটার। সড়কপথে যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।

কিশোরগঞ্জের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাওরাঞ্চলীয় উপজেলা মিঠামইন। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ এটিকে মিঠামন, মিটামন বা মিটাইমন নামেও উল্লেখ করেন। প্রচলিত একটি মত অনুযায়ী, এলাকার আশপাশে একসময় প্রচুর মিষ্টি বা মিঠা রসের খাগড়ার বন ছিল। সেই সূত্রে প্রথমে ‘মিঠাবন’ এবং পরে ‘মিঠামইন’ নামটির প্রচলন ঘটে।

মিঠামইনের উত্তরে ইটনা, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম এবং পশ্চিমে নিকলী উপজেলা। হাওরবেষ্টিত হলেও এটি একটি প্রাচীন জনপদ। বর্ষায় চারপাশ পানিতে ভরে উঠলে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

মিঠামইনে হাওর দেখার পাশাপাশি ঘুরে দেখা যেতে পারে মালিকের দরগা, দিল্লির আখড়া, পুরোনো স্থাপনা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ।

মিঠামইনে গেলে স্থানীয় হোটেলগুলোতে হাওরের বিভিন্ন ধরনের তাজা মাছের পদ খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। থাকার জন্যও রয়েছে বিভিন্ন মানের ছোট-বড় হোটেল ও রিসোর্ট। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলোয়ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই বুকিং করে নেওয়া ভালো।

যোগাযোগব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হওয়ায় মিঠামইন এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অল্প সময়ে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় একদিনের ভ্রমণের জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

মিঠামইন যেতে প্রথমে বাস বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে পৌঁছাতে হবে। এরপর যেতে হবে বালিখলা ঘাটে। সেখান থেকে ঘণ্টাভিত্তিক কিংবা পুরো দিনের জন্য ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়।

নৌকার আকার, মৌসুম এবং ছুটির দিনের ওপর ভাড়া কমবেশি হতে পারে। বালিখলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মিঠামইন পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

তবে শুকনো মৌসুমে হাওরে পানি কমে বা না থাকায় বালিখলা ঘাট থেকে নদী পার হয়ে সড়কপথেও মিঠামইনে যাতায়াত করা যায়।

বর্ষায় হাওরে হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে যাওয়া এবং ঢেউ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই নৌকা বা ট্রলারে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে রাখা এবং নৌযানে ওঠার পর তা ব্যবহার করা জরুরি।

একসঙ্গে চার-পাঁচজনের দল করে গেলে নৌকা বা ট্রলার ভাড়ার খরচ ভাগ করে নেওয়া যায়, ফলে ভ্রমণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়। রওনা হওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ, মানুষ ও জলজ জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি। হাওরে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই অনন্য জলভূমির সৌন্দর্য দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *