

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দেশটির ওপর সমন্বিত ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফাঁকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মন্ত্রী পর্যায়ের কন্ট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা, তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির বিষয় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ভেতরেই এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে রোহিঙ্গারা নিজেদের ইচ্ছায় নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যেতে পারেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানও ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং তাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
ওআইসি কন্ট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকেও মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা, রোহিঙ্গাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পূর্ণ নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে শরণার্থীদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘে জানিয়েছে, প্রায় এক দশক ধরে দেশটি বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। অর্থায়ন কমে যাওয়ায় মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা, মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছে।
ওআইসি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সংস্থাটির কন্ট্যাক্ট গ্রুপ সংকটের একটি বিস্তৃত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ঢাকার প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হবে।