

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে রাতভর পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এ হামলা চালানো হয়।
আফগান কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার পাতান গ্রামে স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে একটি আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। হামলায় বাড়িটিও ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এরপর পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় আরও দুই দফা হামলার খবর পাওয়া যায়। রখাহ ও তোর কান্দি এলাকায় হামলায় একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই দুই স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় ২৮ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়ে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিমান হামলার এক দিন আগে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এর আগে কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর আফগান ভূখণ্ডে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান।
আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং এসব হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সীমান্তপারের সশস্ত্র হামলার জবাবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে আসছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি বড় বিরোধের কারণ হয়ে রয়েছে। নতুন এই বিমান হামলা দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।