শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন চাপ জ্বর-কাশির রোগীতে ভিড়, ডেঙ্গু-হামের চাপে শয্যাসংকট বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী : মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াবে : রাষ্ট্রপতি আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ ফিলিস্তিনিদের পাশে বাংলাদেশের থাকার বার্তা জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার লেবুর দানা গিলে ফেললে দুশ্চিন্তার কারণ আছে কি? নিউইয়র্কে তারেক রহমান-শাহবাজ শরিফের প্রথম বৈঠক, বাণিজ্য-যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা জিৎ-ইধিকার জুটি নিয়ে টালিপাড়ায় নতুন আলোচনা মিরপুর-তেজগাঁওয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান, মাঠে সক্রিয় আনসার ব্যাটালিয়ন সপ্তাহের আমল পর্যালোচনায় জুমার দিনের গুরুত্ব নরসিংদীতে অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ‘আট মাস ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’, প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে নাহিদের অভিযোগ প্রকৃতির অপরূপ সাজে মিরিঞ্জা ভ্যালি, ভ্রমণপিপাসুদের নতুন ঠিকানা গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে : পেট্রোবাংলা সরকারের ভেতরের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ইন্ধন দিচ্ছে : পরওয়ার প্রতিটি মানুষ চরিত্র, পরিবার এবং মানবিক মূল্যবোধের দর্পণ স্বরূপ-মিজানুর রহমান শিশুর কৌতূহল ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার
Notice :

প্রকৃতির অপরূপ সাজে মিরিঞ্জা ভ্যালি, ভ্রমণপিপাসুদের নতুন ঠিকানা

বিনোদন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালেই চোখে পড়ে সবুজের বিস্তীর্ণ আয়োজন। কখনো পাহাড়ের গা ঘেঁষে নেমে আসে সাদা মেঘ, আবার আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে দূর দিগন্তে দেখা মেলে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরেখা। ভোরের মেঘ আর বিকেলের সূর্যাস্ত প্রতিটি সময়েই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় বান্দরবানের লামার মিরিঞ্জা ভ্যালি। পাহাড়, মেঘ ও সমুদ্রের এই অনন্য সমন্বয়ের কারণে অনেক পর্যটক জায়গাটিকে ‘দ্বিতীয় সাজেক’ নামেও অভিহিত করেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মিরিঞ্জা ভ্যালি। পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা যায় আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল, বনভূমি, মাতামুহুরী নদীসহ বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরে বঙ্গোপসাগরের জলরাশিও নজরে আসে।

মিরিঞ্জার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে মেঘের চলাচল দেখা। কখনো মেঘ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে, আবার কখনো মুহূর্তেই চারদিক ঢেকে যায় সাদা মেঘে। এমন সময়ে পাহাড়ের চূড়ার পরিবেশ হয়ে ওঠে অন্যরকম মায়াময়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এখান থেকে পাহাড়ি বন, মাতামুহুরী নদী ও আশপাশের পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। সূর্যোদয় দেখার পাশাপাশি বিকেলে সূর্যাস্তের সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ঘোরার সঙ্গে সময় মিলিয়ে কাছাকাছি আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মারায়ং তং পাহাড়, আলীর গুহা, ডিম পাহাড়, মায়া লেক ও সুখিয়া ভ্যালি।

ঢাকা থেকে সড়কপথে মিরিঞ্জা যেতে হলে কক্সবাজার বা আলীকদমগামী বাসে উঠে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। এরপর চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে স্থানীয় বাস, জিপ, চাঁদের গাড়ি কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জার দিকে যাওয়া যায়।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জার দূরত্ব আনুমানিক ২৪ কিলোমিটার। স্থানীয় যানবাহনে এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগতে পারে। মিরিঞ্জা বাজারে নেমে প্রায় ১০ মিনিট হাঁটলেই ভ্যালির কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।

ঢাকা থেকে মিরিঞ্জার সড়কপথের দূরত্ব আনুমানিক ৩৭০ কিলোমিটার। যানজট ও যানবাহনের ধরন বিবেচনায় পুরো যাত্রায় প্রায় ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় হাতে রাখা ভালো।

চকরিয়া থেকে মিরিঞ্জা পর্যন্ত স্থানীয় বাস বা জিপে জনপ্রতি আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ টাকা খরচ হতে পারে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা হতে পারে। তবে স্থানীয় পরিবহনের ভাড়া সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।

বন্ধু বা পরিবারের কয়েকজন মিলে দলবদ্ধভাবে গেলে চকরিয়া থেকে ব্যক্তিগত জিপ কিংবা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে যাতায়াত তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

মিরিঞ্জা ভ্যালিতে পৌঁছাতে খুব কঠিন কোনো ট্রেকিং করতে হয় না। চকরিয়া থেকে চাঁদের গাড়িতে মুরুমপাড়া পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ২০ মিনিট পাহাড়ি পথে হাঁটলেই ভ্যালির কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

অন্যদিকে চাঁদের গাড়িতে মিরিঞ্জাপাড়া পর্যন্ত গিয়েও সেখান থেকে প্রায় ১০ মিনিট হেঁটে ভ্যালির কাছে যাওয়া যায়। তবে পাহাড়ি পথ হওয়ায় ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা সঙ্গে রাখা জরুরি। বর্ষাকালে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে, তাই এ সময়ে হাঁটার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

মিরিঞ্জা একদিনে ঘুরে ফিরে আসার মতো জায়গা হলেও ভোরের মেঘ কিংবা সূর্যাস্ত কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে রাতে থাকার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

এ এলাকায় পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের পাশাপাশি মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং মিরিঞ্জা ভ্যালি মেঘ মাচাং রিসোর্টের মতো আবাসনও রয়েছে।

মেঘের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে বর্ষার শেষভাগ থেকে শীতের শুরুর সময়টি মিরিঞ্জা ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

নভেম্বরের দিকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পাহাড়ের পাশাপাশি দূরে সমুদ্র দেখার সম্ভাবনাও বাড়ে। ফলে মেঘ, পাহাড় ও সমুদ্র তিন ধরনের প্রাকৃতিক দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ মিলতে পারে।

পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার রাখা যেতে পারে। পাহাড়ি পথে চলাচলের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ থাকা এবং স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ভালো গ্রিপের জুতা সঙ্গে রাখলে পাহাড়ি পথে হাঁটতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে বর্ষায় পিচ্ছিল পথে চলার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

শুধু নিজের আনন্দের জন্য নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্বও পর্যটকদের। তাই যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানোও ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ বন, মাতামুহুরী নদী আর দূর দিগন্তের নীল জলরাশি—সব মিলিয়ে মিরিঞ্জা ভ্যালি হতে পারে পাহাড়প্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে বান্দরবানের লামার এই পাহাড়ি ভ্যালি ভ্রমণতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *