শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন চাপ জ্বর-কাশির রোগীতে ভিড়, ডেঙ্গু-হামের চাপে শয্যাসংকট বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী : মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াবে : রাষ্ট্রপতি আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ ফিলিস্তিনিদের পাশে বাংলাদেশের থাকার বার্তা জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার লেবুর দানা গিলে ফেললে দুশ্চিন্তার কারণ আছে কি? নিউইয়র্কে তারেক রহমান-শাহবাজ শরিফের প্রথম বৈঠক, বাণিজ্য-যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা জিৎ-ইধিকার জুটি নিয়ে টালিপাড়ায় নতুন আলোচনা মিরপুর-তেজগাঁওয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান, মাঠে সক্রিয় আনসার ব্যাটালিয়ন সপ্তাহের আমল পর্যালোচনায় জুমার দিনের গুরুত্ব নরসিংদীতে অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ‘আট মাস ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’, প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে নাহিদের অভিযোগ প্রকৃতির অপরূপ সাজে মিরিঞ্জা ভ্যালি, ভ্রমণপিপাসুদের নতুন ঠিকানা গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে : পেট্রোবাংলা সরকারের ভেতরের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ইন্ধন দিচ্ছে : পরওয়ার প্রতিটি মানুষ চরিত্র, পরিবার এবং মানবিক মূল্যবোধের দর্পণ স্বরূপ-মিজানুর রহমান শিশুর কৌতূহল ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার
Notice :

জ্বর-কাশির রোগীতে ভিড়, ডেঙ্গু-হামের চাপে শয্যাসংকট

স্বাস্থ্য ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

দেশে একদিকে কয়েক মাস ধরে হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুও ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। সব মিলিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রাজধানীর হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্র—বহির্বিভাগে রোগীর দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও আবার নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝে ও করিডরেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিভিন্ন হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু ডেঙ্গু বা হাম নয়, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস ও আরএসভিসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন অনেকে। এসব রোগের বেশ কিছু উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় কেবল জ্বর, কাশি বা শরীর ব্যথা দেখে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হচ্ছে। ফলে রোগের প্রকৃতি নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৪৯ জন। নতুন করে আটজনের মৃত্যু হওয়ায় এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৯।

অন্যদিকে হামের পরিস্থিতিও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি করছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২১ হাজারের সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ। এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ জনে।

শুধু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন ১ হাজার ১৮৩ জন। এদের মধ্যে ১০০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দুই রোগের বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের শয্যা, জনবল ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগে রোগীর চাপও বেড়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এসব রোগীর সবাই ডেঙ্গু বা হাম আক্রান্ত নন। অনেকের শরীরে সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা কিংবা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, মাথা ও শরীর ব্যথা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট—একাধিক রোগের ক্ষেত্রেই এসব উপসর্গ দেখা যায়। ফলে রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিভাগের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী বহির্বিভাগে আসছেন। স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা ৩ থেকে ৪ হাজারের মধ্যে থাকে।

বহির্বিভাগে আসা রোগীদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের প্রধান সমস্যা জ্বর। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ৪৯ জন হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন। ১ হাজার ৩৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা জানান, হাম ও ডেঙ্গুর পাশাপাশি জ্বরের রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগীর চিকিৎসা হওয়ায় সামগ্রিকভাবে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক সংকট তুলনামূলক কম থাকলেও নার্স ও ওয়ার্ডবয়ের ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত শয্যার বাইরেও রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে।

কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।

এসব রোগীর মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের প্রধান উপসর্গ জ্বর। জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার রোগী আসছেন। তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বর বা ভাইরাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত।

হাসপাতালে বর্তমানে ৯১ জন ডেঙ্গু এবং ৪৭ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। জরুরি বিভাগের ৪০টি শয্যাও প্রায় সারাক্ষণ পূর্ণ থাকছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী রোগীদের কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে অথবা প্রয়োজন হলে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। গুরুতর অবস্থায় আসা রোগীর সংখ্যা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, বর্তমান সময়ে জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের একটি অংশ নিউমোনিয়া এবং বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভুগছেন। নিউমোনিয়ার কারণ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা ছত্রাক—সবই ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস ও আরএসভির মতো ভাইরাস থেকেও জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচি, শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ কিংবা সংক্রমিত হাত ও বস্তুর সংস্পর্শের মাধ্যমেও এসব জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঢাকা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার বলেন, বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গুর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাস এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের রোগীও চিকিৎসা নিতে আসছেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস ও আরএসভিসহ একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর বাইরে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্রও খুব একটা আলাদা নয়। কোথাও ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সব শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে কিছু হাসপাতালে মেঝে ও করিডরেও চিকিৎসা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানান, হাম ও ডেঙ্গুর রোগীর চাপের কারণে অনেক হাসপাতালেই শয্যা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলো নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি জানান, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল চালু রয়েছে। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালেও অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

এদিকে জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের মধ্যে কোন ধরনের ভাইরাস বেশি সক্রিয়, সে বিষয়ে নজরদারি চালাচ্ছে আইইডিসিআর। নতুন কোনো সংক্রমণের ধরন দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খুলনা ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে আসতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০।

এসব রোগীর বড় একটি অংশ জ্বর নিয়ে আসছেন। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। আরও ৩৯ জন ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট না থাকলেও শয্যার স্বল্পতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ২০০ রোগী পর্যন্ত দেখতে হচ্ছে।

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বিভাগজুড়ে ১ হাজার ১০০-এর বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছরে বিভাগটিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে বহির্বিভাগে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ রোগী এলেও বর্তমানে এই সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০।

নতুন আসা রোগীদের একটি বড় অংশ জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি ১৯৪ রোগীর মধ্যে ৫৪ জন হাম এবং ৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। অন্যদের মধ্যে জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীও রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. ইফতেখার আহম্মদ জানান, কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আইসিইউ প্রয়োজন এমন রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীদের অনেকের অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে শয্যাসংকট চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তির হার ২৫০ শতাংশের বেশি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দুই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ১৩ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ৬৮ জন জ্বরের রোগী এবং পাঁচজন নিউমোনিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু ও হামের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাস এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর তৈরি হয়েছে বহুমুখী চাপ। শুধু শয্যা বাড়ানো নয়, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই ধরনের উপসর্গ থাকলেও রোগের কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শরীর ব্যথাকে শুধু সাধারণ ভাইরাসজনিত সমস্যা হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ওয়ার্ড ও ফিল্ড হাসপাতাল চালুর পাশাপাশি রোগের ধরন শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হামের পাশাপাশি অন্য কোনো সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *