শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন চাপ জ্বর-কাশির রোগীতে ভিড়, ডেঙ্গু-হামের চাপে শয্যাসংকট বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী : মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়াবে : রাষ্ট্রপতি আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ ফিলিস্তিনিদের পাশে বাংলাদেশের থাকার বার্তা জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার লেবুর দানা গিলে ফেললে দুশ্চিন্তার কারণ আছে কি? নিউইয়র্কে তারেক রহমান-শাহবাজ শরিফের প্রথম বৈঠক, বাণিজ্য-যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা জিৎ-ইধিকার জুটি নিয়ে টালিপাড়ায় নতুন আলোচনা মিরপুর-তেজগাঁওয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান, মাঠে সক্রিয় আনসার ব্যাটালিয়ন সপ্তাহের আমল পর্যালোচনায় জুমার দিনের গুরুত্ব নরসিংদীতে অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ‘আট মাস ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’, প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে নাহিদের অভিযোগ প্রকৃতির অপরূপ সাজে মিরিঞ্জা ভ্যালি, ভ্রমণপিপাসুদের নতুন ঠিকানা গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে : পেট্রোবাংলা সরকারের ভেতরের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ইন্ধন দিচ্ছে : পরওয়ার প্রতিটি মানুষ চরিত্র, পরিবার এবং মানবিক মূল্যবোধের দর্পণ স্বরূপ-মিজানুর রহমান শিশুর কৌতূহল ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার
Notice :

শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার

Reporter Name
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে সাত বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, শিশুটিকে ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সদর থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে শিশুটির বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার আগের রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মীমাংসা করেন বলে জানা গেছে।

শিশুটির বাবা জানান, একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দুই শিশুর মধ্যে নিয়মিত চলাফেরা ছিল। পিকনিকের সময় সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও সেটিকে বড় কোনো বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব শেষে বাসায় ফেরার পর ওই কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে তার বাসায় নিয়ে যান। কিছু সময় পর শিশুটি কান্না করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। তার হাতে একটি বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশ ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শিশুটি তার মাকে বলে, খাটের পায়ার ওপর হাত রাখার পর তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে শিশুটির মা প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান এবং তাকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে ঘটনার পর ওই কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটি তার চার বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। এ অভিযোগের পর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

তবে শিশুটির বিরুদ্ধে মেয়েশিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত মামলা বা অভিযোগ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে পুলিশ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত কনস্টেবলের বাসায় যায়। তখন বাসায় তালা দেওয়া ছিল। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ দেখা যায়। পাশাপাশি মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে জানান, মেয়েশিশুটির বাবা-মা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তারা মৌখিকভাবে মেয়েকে নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুই শিশুর মধ্যে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বড়দের আচরণ কতটা আইনসঙ্গত হয়েছে সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে কনস্টেবলের পক্ষ থেকে মেয়েশিশুটিকে নিপীড়নের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিরও আইনগতভাবে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *