বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার বাড়ল লঞ্চভাড়াও ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি ধামরাইয়ে প্রেমিকার বাড়ি থেকে প্রেমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মা-মেয়ে আটক পূজার সঙ্গে শাহরুখের বন্ধুত্বের মুহূর্ত দেখে ভক্তদের প্রশংসার বন্যা ইউপি-পৌরসভাসহ ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে বসবে সোলার প্যানেল : মীর শাহে আলম ইরানকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের আর মাত্র এক ম্যাচ! মেসির বিদায়ী ম্যাচের জার্সিতে বিশেষ চমক মোরেলগঞ্জে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন কুড়িগ্রামে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর : তিন প্রজন্মের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন সংলাপ বন্ধ তেলের খরচই উঠছে না, গোলাপি বাসে প্রতিদিন লোকসান ধানমন্ডি লেক থেকে মার্কেটিং কনসালটেন্টের মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়িয়েও ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান : রিজভী বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি ঠেকাতে চট্টগ্রাম পুলিশের নজরদারি জ্বালানির পর বাসভাড়া বাড়ল, কিলোমিটারে ১৭ পয়সা জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেন তারেক : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা গ্রেপ্তার
Notice :

ইউপি-পৌরসভাসহ ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে বসবে সোলার প্যানেল : মীর শাহে আলম

Reporter Name
ছবি সংগৃহীত

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ইতোমধ্যে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্বের অর্থও এতে যুক্ত করে উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডির বিভিন্ন কার্যালয়, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এসব স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিশেষ বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শুধু নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো নয় বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্বের নতুন উৎস তৈরি করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সরকারি বরাদ্দের অর্থে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব রাজস্ব থেকে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে সোলার প্যানেলের সক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই ব্যবহার করবে। দিনের বেলায় অফিস পরিচালনার সময় সোলার থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ কমবে এবং লোডশেডিং বা সরবরাহে সাময়িক সমস্যার প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে। আর নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর যে বিদ্যুৎ অতিরিক্ত থাকবে, তা নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বাড়তি উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে সোলার স্থাপনে ব্যয় করা অর্থ ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে। এরপর সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত আয় করতে পারবে। অর্থাৎ সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে যে অবকাঠামো তৈরি হবে, সেটি একপর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজস্ব রাজস্বের নতুন উৎসে পরিণত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সোলার প্যানেল স্থাপনের ব্যয় হিসাবেও একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হিসাবে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সোলার সিস্টেম স্থাপনে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। এই হিসাবের ভিত্তিতেই বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে ভ্যাট ও আয়করসহ অন্যান্য ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোথাও কোথাও বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য এ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মোট ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও তাদের নিজস্ব রাজস্ব থেকে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে সোলার প্যানেলের সক্ষমতা বাড়াতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলো হাট-বাজার ও ভূমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে যে রাজস্ব পায়, তার একটি অংশ এ কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, দেশের হাট-বাজারগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ থেকে ছাদ বা উপযুক্ত স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পৃথকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে হাট-বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এসব প্যানেল স্থাপন করা হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল, গ্রামীণ শক্তিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সোলার প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ বছরের চুক্তি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। চুক্তির আওতায় সোলার প্যানেলের দীর্ঘমেয়াদি সেবা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় সোলার প্যানেল স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত চাপ কমবে। চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিগুলো সোলার সিস্টেমের মনিটরিং ও মেইনটেন্যান্স করবে এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সমাধানের দায়িত্বও পালন করবে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখার একটি কাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৩৭০ কোটি টাকার এই বরাদ্দের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ীও অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদের জন্য ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভার জন্য ৬৪ কোটি টাকা, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২০ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদের জন্য ১২ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ রয়েছে। পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার ও অন্যান্য স্থাপনাকে কর্মসূচির আওতায় এনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় ব্যবস্থাকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। হাট-বাজার, খেয়াঘাট, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিংসহ বিভিন্ন উৎস থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যে রাজস্ব আদায় করে, তার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সরকারি অর্থের সঙ্গে নিজস্ব অর্থ যোগ করে সোলার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারবে অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করতে পারবে।

পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নেট মিটারিং ব্যবস্থা। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে দিনের বেলায় সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় অংশ সরাসরি ব্যবহার করা যাবে এবং অতিরিক্ত অংশ গ্রিডে পাঠিয়ে তার বিপরীতে অর্থ পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে ৩৭০ কোটি টাকার এ উদ্যোগ শুধু সরকারি ও স্থানীয় সরকার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে দেখলে এর পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো, স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ কমানো এবং একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্বের নতুন পথ তৈরি এই কয়েকটি লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে দেশের স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিসরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *