
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিরপুর ১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকা পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর পেছনে ‘ফ্যাসিজমের দোসররা’ জড়িত।
ডিএনসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে হামলা ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি সূত্র ও প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, হামলাকারীরা সিটি করপোরেশনের পরিবহন, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত দাবি করে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, হামলাকারীদের আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে সরকারবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সামনে রয়েছে। প্রশাসক বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনে ভবিষ্যতে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণের চাহিদা ও সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব থেকেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। সোমবার ১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে উচ্ছেদ অভিযান শেষে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। ফুটপাতকে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হামলায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে থাকবে সিটি করপোরেশন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অভিযানস্থলে পুলিশ এলেও পরে সেখানে দায়িত্ব পালনরত কোনো পুলিশ সদস্যকে পাওয়া যায়নি।
ডিএনসিসি প্রশাসক দাবি করেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত করার পক্ষে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
ঘটনার পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বরের দিকে সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আবারও অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনা ও দখলকৃত অংশ সরিয়ে দেওয়া এবং কিছু মালামাল যানবাহনে তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ডিএনসিসি প্রশাসকের সঙ্গে মিরপুর জোনের বিভাগীয় উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, কাফরুল ও মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মিরপুর ১০-এর ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন তদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএনসিসি প্রশাসক ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করলেও হামলায় কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এর আগে মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে ডিএমপি জানিয়েছে।