বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২৬ ক্যাটাগরিতে ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ বসুন্ধরায় জ্বালানি অবকাঠামো ঘাটতি, বাড়ছে যানবাহনের চাপ ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ এমপিদের আটক শুধু বই নয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গুরুত্ব পাবে খেলাধুলা-সংস্কৃতিও : শিক্ষামন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আগে অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি : তথ্য উপদেষ্টা এনসিটিবিতে দুদকের অভিযান, পাঠ্যবইয়ের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনে আনসারদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন শুভ-কেয়ার ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ঘিরে চমকপ্রদ কথা: প্রথম ওয়েব ফিল্ম কেয়া পায়েলের ‘পিচ্চি রাজা’কে পালাতে সহায়তা, গ্রেপ্তার এসআই ও পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়া হত্যা মামলায় হানিফসহ ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ, সামনে মিলল রক্তমাখা ছুরি ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ, তবু মামলা হয়নি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বিরুদ্ধে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউশনের আপিল সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার সুনিপুণ কারিগর: ‘মা’ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর অভয়ারণ্য নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড জালিয়াতি: ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে দুদক

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি / ৭ বার ভিউ
আপডেটঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসস্থান বলতে শুধু একটি ঘরকে বোঝায় না। একটি টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, মানসম্মত সড়ক ও গণপরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও জড়িত। সর্বোপরি নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগর এলাকায় মানুষের বসতি ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নগর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন ও টেকসই নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, শহরাঞ্চলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ নয়, তবে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সীমিত আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

নগর এলাকায় অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরের সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর একটি কার্যকর বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনি নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নগর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতের সংকট মোকাবিলা আরও কার্যকরভাবে সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিকল্পিত এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার ধাপে ধাপে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ আর শুধু একটি লক্ষ্য থাকবে না, বরং তা দেশের মানুষের জন্য বাস্তব চিত্র হয়ে উঠবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর বিভিন্ন কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ
ThemeCreated By A.Rayhan