বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২৬ ক্যাটাগরিতে ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ বসুন্ধরায় জ্বালানি অবকাঠামো ঘাটতি, বাড়ছে যানবাহনের চাপ ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ এমপিদের আটক শুধু বই নয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গুরুত্ব পাবে খেলাধুলা-সংস্কৃতিও : শিক্ষামন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আগে অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি : তথ্য উপদেষ্টা এনসিটিবিতে দুদকের অভিযান, পাঠ্যবইয়ের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনে আনসারদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন শুভ-কেয়ার ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ঘিরে চমকপ্রদ কথা: প্রথম ওয়েব ফিল্ম কেয়া পায়েলের ‘পিচ্চি রাজা’কে পালাতে সহায়তা, গ্রেপ্তার এসআই ও পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়া হত্যা মামলায় হানিফসহ ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ, সামনে মিলল রক্তমাখা ছুরি ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ, তবু মামলা হয়নি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বিরুদ্ধে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউশনের আপিল সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার সুনিপুণ কারিগর: ‘মা’ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর অভয়ারণ্য নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড জালিয়াতি: ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে দুদক

মন ভালো রাখতে কোথায় যাবেন—পাহাড় না সমুদ্র?

বিনোদন ডেস্ক / ১১ বার ভিউ
আপডেটঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত

শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, যানজট, শব্দদূষণ আর নানা দুশ্চিন্তায় অনেক সময় মন হয়ে ওঠে ক্লান্ত। কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন থেকে একটু বিরতি নিতে তখন প্রকৃতির কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মন ভালো করতে গেলে কোথায় যাবেন, পাহাড়ে নাকি সমুদ্রের কাছে?

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটি যেন চিরন্তন এক প্রশ্ন। সমুদ্র যেমন তার বিশালতা আর ঢেউয়ের ছন্দে মানুষকে টানে, পাহাড় তেমনি নীরবতা ও প্রকৃতির গভীরতায় মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে।

ভোরের আগের পাহাড়ি পরিবেশের কথা ভাবুন। চারপাশে হালকা অন্ধকার, ঠান্ডা বাতাস, দূরে মেঘে ঢাকা উপত্যকা। ধীরে ধীরে সূর্যের আলো ফুটে উঠছে পাহাড়ের চূড়ায়। এমন দৃশ্যের সামনে দাঁড়ালে শহরের ব্যস্ততা যেন মুহূর্তেই অনেক দূরে সরে যায়।

পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ তার নীরবতা। শহরে যেখানে সারাক্ষণ গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ আর মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন, সেখানে পাহাড়ে শোনা যায় ঝিঁঝি পোকার ডাক, ঝরনার শব্দ কিংবা বাতাসের মৃদু শোঁ শোঁ আওয়াজ।

এই নীরবতা অনেকের কাছেই মানসিক প্রশান্তির সুযোগ তৈরি করে। নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়। ব্যস্ততার মধ্যে যে কথাগুলো নিজের কাছেই বলা হয়ে ওঠে না, পাহাড়ের নির্জনতায় সেসব ভাবার অবকাশ পাওয়া যায়।

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের বিশালতা দেখলে নিজেকে খুব ছোট মনে হতে পারে। তবে সেই অনুভূতি অনেকের জন্য হতাশার নয়; বরং জীবনের নানা সমস্যাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ তৈরি করে।

ক্যারিয়ার, অর্থ, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা চাপ যেগুলো শহুরে জীবনে অনেক বড় মনে হয়, প্রকৃতির বিশালতার সামনে সেগুলোকে কখনো কখনো তুলনামূলকভাবে ছোট বলে মনে হতে পারে।

পাহাড়ে ভ্রমণের আরেকটি বিশেষ দিক হলো পরিশ্রম। দীর্ঘ পথ হাঁটা, উঁচু-নিচু রাস্তা পেরোনো কিংবা চূড়ায় ওঠার ক্লান্তি শেষ পর্যন্ত আনন্দে পরিণত হয়। গন্তব্যে পৌঁছে চারপাশের দৃশ্য দেখার মধ্যে থাকে নিজের সীমা অতিক্রম করার এক ধরনের তৃপ্তি। তবে মন ভালো করার জন্য পাহাড়ই একমাত্র পথ নয়। সমুদ্রেরও রয়েছে নিজস্ব আকর্ষণ।

ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে তীরে আছড়ে পড়ে আবার ফিরে যায়। সমুদ্রের এই নিরন্তর ছন্দ অনেকের মনে তৈরি করে এক ধরনের প্রশান্তি। বালুকাবেলায় হাঁটা, সমুদ্রের ঢেউ দেখা কিংবা দীর্ঘ সময় দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকার সুযোগ করে দিতে পারে।

সমুদ্র যেন মানুষকে গতিশীল থাকতে শেখায়। তার বিশালতা যেমন মুগ্ধ করে, তেমনি ঢেউয়ের অবিরাম চলাচল জীবনের পরিবর্তনশীলতার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

কেউ নীরবতা খুঁজতে পাহাড়ে যান, কেউ আবার সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে স্বস্তি পান। কারও কাছে পাহাড়ের সবুজ, মেঘ আর নির্জনতা বেশি আকর্ষণীয়; আবার কারও কাছে সমুদ্রের নীল জল, খোলা আকাশ আর দিগন্ত বেশি স্বস্তিদায়ক।

তাই পাহাড় না সমুদ্র এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপরই নির্ভর করে কোন জায়গাটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী।

যেখানেই যান না কেন প্রকৃতিকে উপভোগ করতে কিছু সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। সারাক্ষণ ক্যামেরায় মুহূর্ত বন্দি করার বদলে কিছু সময় নিজের চোখে প্রকৃতিকে দেখুন।

পাহাড়ে গেলে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা, কোনো নিরিবিলি জায়গায় বসে চারপাশ দেখা কিংবা প্রকৃতির শব্দ শোনা যেতে পারে। আর সমুদ্রের কাছে গেলে ঢেউয়ের শব্দ শুনে কিছুটা সময় নির্ভারভাবে কাটানো যেতে পারে।

ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য শুধু ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা নয়; নিজের জন্য কিছু সময় বের করে নেওয়াও ভ্রমণের বড় একটি অংশ।

জীবনের ব্যস্ততায় কখনো যদি মনে হয় একটু বিরতি প্রয়োজন, তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে প্রকৃতির কাছে বেরিয়ে পড়তে পারেন। গন্তব্য পাহাড় হোক কিংবা সমুদ্র প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো কিছুটা সময় হয়তো আপনাকে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক স্বস্তি এনে দেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ
ThemeCreated By A.Rayhan