বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২৬ ক্যাটাগরিতে ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ বসুন্ধরায় জ্বালানি অবকাঠামো ঘাটতি, বাড়ছে যানবাহনের চাপ ভোট চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ এমপিদের আটক শুধু বই নয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গুরুত্ব পাবে খেলাধুলা-সংস্কৃতিও : শিক্ষামন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আগে অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি : তথ্য উপদেষ্টা এনসিটিবিতে দুদকের অভিযান, পাঠ্যবইয়ের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনে আনসারদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন শুভ-কেয়ার ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ঘিরে চমকপ্রদ কথা: প্রথম ওয়েব ফিল্ম কেয়া পায়েলের ‘পিচ্চি রাজা’কে পালাতে সহায়তা, গ্রেপ্তার এসআই ও পুলিশ সদস্য কুষ্টিয়া হত্যা মামলায় হানিফসহ ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ, সামনে মিলল রক্তমাখা ছুরি ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ, তবু মামলা হয়নি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বিরুদ্ধে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউশনের আপিল সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার সুনিপুণ কারিগর: ‘মা’ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল যেন ডেঙ্গুর অভয়ারণ্য নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড জালিয়াতি: ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে দুদক

সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার সুনিপুণ কারিগর: ‘মা’

মিজানুর রহমান / ২৮ বার ভিউ
আপডেটঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ন
ছবি: এআই জেনারেটেড, প্রতিকী

মিজানুর রহমান

শিক্ষক যদি হন মানুষ গড়ার কারিগর, তবে মা হবেন শান্তিময় এবং সুন্দর পৃথিবীর গড়ার সুদক্ষ কারিগড়। কারণ একজন সচেতন মায়ের পক্ষে একটি সুন্দর ও শান্তিময়  পৃথিবীর মূল ভিত্তি স্থাপন সম্ভব।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক তার ছাত্র বা ছাত্রীকে একটি নির্দিষ্ট বয়স ও সময়ব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক বা তাত্ত্বিক শিক্ষা দিয়ে থাকেন। কিন্তু একজন সন্তানের আসল শিক্ষালয় শুরু হয় মায়ের কোল থেকে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই মূলত শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ শুরু হয়। সন্তানের শয়ন, স্বপন, জাগরণ—সবকিছুই প্রভাবিত হয় মায়ের আদর্শ দ্বারা। একজন মানুষের জীবনে শিক্ষকদের সান্নিধ্য বলতে গেলে সীমিত সময়ের জন্য, কিন্তু মায়ের ছায়ায় কাটে তার জীবনের দীর্ঘ কাল। যে কারণে, মায়ের প্রতিটি আচরণ, কথা ও মানসিকতা সন্তানের অবচেতন মনে স্থায়ীভাবে রেখাপাত করে।

শিশুর জন্মের পর থেকে তার মায়ের কাছ থেকে সে ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতি শিখতে শুরু করে। সে তার মাকে সবসময় অনুসরণ ও অনুকরণ করে। মা যদি সন্তানকে পরোপকার, সততা, সহমর্মিতা, ক্ষমা এবং ধৈর্যের পাঠ দিতে সক্ষম হন, তবে সেই সন্তান বড় হয়ে অবশ্যই সমাজকে আলোড়িত এবং আলোকিত করে। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন একবার বলেছিলেন, “আমার মা-ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি আমার প্রতি এতটাই বিশ্বাসী ছিলেন যে আমার মনে হয়েছিল, আমার বেঁচে থাকার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে এবং আমাকে কোনোভাবেই তাকে হতাশ করা যাবে না।”

মায়ের দেওয়া মানবিক মূল্যবোধের গভীরতা বা ব্যাপ্তি যত বেশি হয়, সন্তানের মানসিক সংস্করণটিও ঠিক তত বেশি সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় হয়। একজন মা তার সন্তানকে যতখানি মানবতার দীক্ষা দেবেন, তার সন্তান ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ঠিক ততটুকু মানবিকতার প্রতিফলন ঘটাবে।

পণ্যের গুণগত মান যেমন তার কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল, ঠিক তেমনি একটি সুন্দর সমাজ বা আগামী পৃথিবী কেমন হবে, সেটা আজকের মায়েদের দেওয়া শিক্ষা-দীক্ষার ওপর নির্ভশীল। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মা যদি তার সন্তানকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দেন, তবে সেই সন্তান কখনো পৃথিবীকে অশান্ত করতে পারে না। তাই আগামী সমাজ ও পৃথিবীর রূপরেখা মায়েদের দেয়া শিক্ষা ও দীক্ষার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।

একজন শিক্ষিত ও সচেতন মা কেবল একটি সন্তানকে নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মকে আলোর পথে চলতে শেখাতে পারেন। মায়ের হাত ধরেই পৃথিবীতে জন্ম নেয় একেকজন মহামানব, যারা বদলে দিয়েছেন পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাস।

পরিশেষে বলা যায়, মা হলেন সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার এক অনন্য ও সুনিপুণ কারিগর। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি মানুষকে গড়েন না, বরং একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আসুন, আমরা আমাদের মায়েদের এই চিরন্তন ত্যাগ ও অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই। মায়েদের দেওয়া নৈতিকতা এবং মানবতার শিক্ষা ও দীক্ষাকে বুকে ধারণ করে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে নিজের জায়গা থেকে আমরা প্রত্যেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

লেখক: সাংবাদিক ও মোটিভেটর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ
ThemeCreated By A.Rayhan