

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নহে)
সাগর-রুনি—দুটি নাম, একটি অন্তহীন ক্ষত। এক যুগেরও বেশি সময় পাড় হয়ে গেল, কিন্তু এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার আজও অন্ধকারের অতলে। আজ হাজার হাজার চেনা-অচেনা সাংবাদিকের ভিড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি—আমরা কি তবে বিচারহীনতার এক গহবরে তলিয়ে যাচ্ছি?
যেখানে কলম ছিল সত্যের ঢাল…
আমাদের পেশা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কিন্তু আজ বড় আক্ষেপ নিয়ে বলতে হয়, যে কলমে একসময় শুধু সত্য উচ্চারিত হতো, আজ সেখানে কেন মিথ্যার লেকচার? মানবতার সেই সাহসী শক্তি আজ কোথায় হারিয়ে গেল? একজন সাংবাদিক যখন পদে পদে অন্যায়, অপমান আর বঞ্চনার শিকার হন, তখন এই সমাজ কেন নিশ্চুপ?
পেশাগত মর্যাদা ও আমাদের লড়াই:
সাংবাদিকতা আজ কেবল বিচারহীনতায় নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার। একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ, অন্যদিকে মাসের পর মাস বেতনহীন জীবন। যখন একজন সংবাদকর্মী পরিবারের মুখে আহার তুলে দিতে হিমশিম খান, যখন তার কোনো নিরাপত্তা থাকে না—তখন সেই কলঙ্ক কি শুধু তার একার? নাকি পুরো সিস্টেমের?
বিবেকের কাছে প্রশ্ন:
এত এত গণমাধ্যম, এত এত সংগঠন আর হাজার হাজার সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও কেন আজও সাগর-রুনির বিচার হলো না? কেন আমাদের সহকর্মীরা রাজপথে অপমানের শিকার হয়েও সুবিচার পায় না? আমরা কি তবে শুধু সংখ্যাতেই বাড়ছি, শক্তিতে নয়?
সত্যিকারের সেই কলম কি তবে চিরতরে হারিয়ে গেল, যা মানুষের শেষ ভরসা ছিল? সাংবাদিক সমাজ কি তবে এভাবেই অপমান আর অবহেলার গ্লানি মেখে বেঁচে থাকবে?
সময় এসেছে কলমকে আবার সেই সত্যের ধার দেওয়ার। কারণ, সাগর-রুনির বিচার না হওয়া মানে আমাদের প্রত্যেকের কলমের পরাজয়। আমরা আর কলঙ্কিত হয়ে বাঁচতে চাই না, আমরা আমাদের হারানো মর্যাদা আর অধিকার ফিরে পেতে চাই।
-লেখক: গণমাধ্যম কর্মী