
বান্দরবানে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তায়িফা সুলতানা নামের তিন বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি কক্ষে রাখা বাক্সের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই শিশু তায়িফা সুলতানাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শিশুটির বাবা ইলিয়াস খান নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় গেলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
ইলিয়াস খানের বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। ফুটেজে দেখা যায়, নার্গিস সুলতানা শিশু তায়িফাকে তার কক্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে ওই কক্ষে থাকা একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নার্গিস সুলতানাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা তার ভাতিজি তায়িফাকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে শিশুটিকে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত শিশুটির পরিবারের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নার্গিস সুলতানার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর থেকে তিনি তাঁর ভাই ইলিয়াস খানের পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েছেন। ওই পরিবারের সদস্যের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে নার্গিস সুলতানার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি পরিবারের পক্ষ থেকে করা একটি ধারণা; হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানকার একটি বাক্স থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।