মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও তুলনামূলক কম: রিজভী ইমরান খানের তিন বোনই আটক, পিটিআইয়ের নিন্দা জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না: প্রতিমন্ত্রী আফগানিস্তানে রাতভর পাকিস্তানের হামলা, নিহত একই পরিবারের ৩ জন অপ্রতিম হত্যা : তথ্য গোপন করায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ এমপি নজরুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধামরাইয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মহিলাদল নেত্রীর মামলা ব্যাংক পরিচালনায় নিজেদের সংস্কারে এনসিসি ও এসবিএসি মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী অনুমোদন অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সরাসরি জড়িত তিনজন : পুলিশ হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, রাজধানীতে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ইনুর মামলার ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ৩ অভিযোগ প্রমাণিত ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানায় রাতে চীনা কর্মকর্তাকে বেঁধে ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ পুত্রসন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার দেশের হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান অপ্রতিম হত্যায় গ্রেফতার ৪, অপরাধ স্বীকারের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপ্রতিমের শেষ বিদায়, বাবার কণ্ঠে ন্যায়বিচারের দাবি
Notice :

ডাইমিথাইল ইথার (DME)

Reporter Name

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

ডাইমিথাইল ইথার (DME) : এলপিজির বিকল্প ও সরকারের দৃষ্টি জরুরি বর্তমান জ্বালানি সংকট ও এলপিজির ওপর আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা আমাদের দেশের রান্না ও শিল্পখাতকে প্রভাবিত করছে। এই পরিস্থিতিতে ডাইমিথাইল ইথার বা DME একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি এলপিজির সঙ্গে ২০% পর্যন্ত মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়, রান্নাঘরের বাতাসকে পরিষ্কার রাখে এবং পরিবেশ দূষণ কমায়।

বাসাবাড়িতে DME-এর প্রভাব

DME রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এলপিজির সাথে ২০% পর্যন্ত মিশিয়ে, কোনো বড় যান্ত্রিক পরিবর্তন ছাড়াই। এর প্রধান সুবিধা হলো:

পরিবেশবান্ধব: দহনকালে কালো ধোঁয়া বা সালফার অক্সাইডের নির্গমন নেই ফলে রান্নাঘরের বাতাসে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।

সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য: কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, বায়োমাস বা গ্রিনহাউস গ্যাস থেকে DME তৈরি করা সম্ভব যা এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে:

সিল ও পাইপের ক্ষয়: DME সাধারণ রাবার বা প্লাস্টিকের সীল দ্রুত নষ্ট করে তাই ব্যবহারযোগ্য ইলাস্টোমার সীল প্রয়োজন।

ক্যালরিফিক মান কম: একই পরিমাণ রান্নার জন্য কিছুটা বেশি DME প্রয়োজন হতে পারে এলপিজির তুলনায়।

শিল্পক্ষেত্রে DME-এর ব্যবহার

শিল্পক্ষেত্রেও DME-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় বিশেষ করে ভারী ট্রাক, জেনারেটর বা শিল্পকাজের জন্য।

সুবিধা:

ডিজেল বিকল্প : DME-এর উচ্চ সিটেন নাম্বার (>55) ইঞ্জিনে সামান্য পরিবর্তনের পর ব্যবহারযোগ্য, যা কম শব্দ এবং কম দূষণ উৎপন্ন করে।

রাসায়নিক কাঁচামাল : এরোসল প্রোপেলান্ট, রেফ্রিজারেন্ট এবং বিভিন্ন শিল্প রাসায়নিক উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য।

কার্বন হ্রাস : শিল্পকারখানার ক্লিন ফুয়েল হিসেবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক।

চ্যালেঞ্জ:

লুব্রিসিটি সমস্যা: ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহার করলে ফুয়েল পাম্পে ঘর্ষণজনিত সমস্যা হতে পারে যা আলাদা লুব্রিকেটিং অ্যাডিটিভ প্রয়োগের প্রয়োজন।

উৎপাদন খরচ : বড় স্কেলে DME উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যয়বহুল।

সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন কেন?

নীতিমালা ও প্রণোদনা: সরকার DME উৎপাদন এবং বিতরণে নীতি প্রণয়ন করতে পারে যাতে শিল্প ও গৃহস্থালির জন্য এটি সহজলভ্য হয়।

অবকাঠামো উন্নয়ন: সিলিন্ডার, চুলা, পাইপ ও সীলের উপযোগী মান নির্ধারণ ও উৎপাদন তদারকি করা।

গবেষণা ও উদ্ভাবন: দেশীয়ভাবে DME উৎপাদন ও মিশ্রণ প্রযুক্তিতে গবেষণার জন্য অনুদান এবং কেন্দ্র স্থাপন।

জনসচেতনতা: DME-এর সুবিধা ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও প্রচার।

ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে সরকারি সহায়তায় DME-এর ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশেও যথাযথ নীতি, অবকাঠামো ও সচেতনতা থাকলে DME দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে পারে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

DME এলপিজির জন্য কোনো অভিশাপ নয় বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী বিকল্প। বাসাবাড়ি বা শিল্পক্ষেত্রে DME ব্যবহার করলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এক বড় ধাপ নেওয়া সম্ভব। তবে সিলিন্ডার, চুলা ও পাইপের উপাদানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং ব্যবহারিক সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

সঠিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর সঙ্গে DME হতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার একটি টেকসই সমাধান।

* লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক

বশিলা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *