
দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়েই আরও বেশি রোগীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল সংকট দূর করতেও কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশব্যাপী নার্স নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা গেলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেমিনারে দেশে এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনকে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল নিয়োগেও গুরুত্ব দিচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১৫১ শয্যায় উন্নীত হলে স্থানীয় পর্যায়ে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।