

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে নির্ধারিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এবার আরও কিছু অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, কর আদায় বাড়ানো, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ নতুন কাঠামোতে এগোতে আগ্রহী।
এদিকে ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব বিষয় আটকে আছে, সেগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইএমএফ সদর দফতরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুটি টিমের সঙ্গে বৈঠক হয় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্ব ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করা বাংলাদেশ মিশনের। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
জানা যায়, আইএমএফ থেকে প্রতিশ্রুত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় এখনও বাকি ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রত্যাশা নতুন সরকারের। সংস্থাটির শর্ত বাস্তবায়নে উদাসীনতা ঋণ ছাড়ে বাধা হতে পারে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারে ধীর গতি, নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় আইএমএফ পরবর্তী ঋণ ছাড় স্থগিত করেছে। এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণচুক্তি সম্পাদন করে। এই কর্মসূচির আওতায় একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম কিস্তি হিসেবে দেশটি পায় ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়। ধারাবাহিকভাবে ২০২৪ সালের জুন মাসে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার বাংলাদেশ গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই ঋণ কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ঋণের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয় এবং মোট ঋণের পরিমাণে অতিরিক্ত ৮০০ মিলিয়ন ডলার যুক্ত করা হয়। ফলে পুরো কর্মসূচির আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।
সবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ জুন চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে বাংলাদেশ আরও ১৩৪ কোটি মার্কিন ডলার পায় যা এই ঋণ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত।