
বিশিষ্ট সৌন্দর্য বিশেষঞ্জ আফরোজা পারভীনের পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ৯৯ জন উদ্যোক্তার গল্প নিয়ে সংকলন ‘চলো এগিয়ে যাই’। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর নটরডেম ক্লাব অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
চলো এগিয়ে যাই’ বইয়ে সৌন্দর্যশিল্পে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ের বাধা পেরিয়ে যারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নানা দিক উঠে এসেছে এসব গল্পে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সৌন্দর্যশিল্পের উদ্যোক্তা, সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ, ফ্যাশন ডিজাইনার, লেখক, কবি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লাইফস্টাইল সাংবাদিক লাবণ্য লিপি। তিনি বলেন, আফরোজা পারভীনের উদ্যোগ শুধু উদ্যোক্তাদের পরিচিত করে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার মানসিক শক্তিও জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় যেসব নারী নিজেদের কথা প্রকাশ করতেও সংকোচ বোধ করতেন, তাদের অনেকেই এখন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবার এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ কানিজ আলামাস খান অনুষ্ঠানে সৌন্দর্যশিল্পে নারীদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সৌন্দর্যসেবা খাতকে এগিয়ে নিতে নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশ উইমেনস চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সংগীতা আহমেদ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারজানা খান তাদের বক্তব্যে নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই নারীরা নিজেদের জায়গা তৈরি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। নারীদের এই অগ্রযাত্রা নিয়ে তাঁরা গর্ব প্রকাশ করেন।
‘চলো এগিয়ে যাই’ বইয়ে স্থান পাওয়া উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মারুফ মুন্না, মহসিনা মুন্নি ও ইকরা আহসান চৌধুরী।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে উদ্যোক্তা জীবনের নানা বাধা ও প্রতিকূলতার গল্প। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তারা কীভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তারা।
নিজেদের পথচলায় উজ্জ্বলা ও আফরোজা পারভীনের সহযোগিতা ও ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক নাসিমা আনিস। তিনি বলেন, সৌন্দর্য খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।
তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে শ্রম দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই শ্রমের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক মূল্যায়ন যুক্ত থাকে না। ফলে একজন নারী যখন নিজস্ব উদ্যোগে আয় করতে শুরু করেন, তখন পরিবার ও সমাজে তার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয় এবং তিনি স্বীকৃতি অর্জন করেন।
আফরোজা পারভীন সৌন্দর্যশিল্পে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন নাসিমা আনিস।
অনুষ্ঠানে ‘উজ্জ্বলা’র পথচলা এবং সৌন্দর্যশিল্পে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন আফরোজা পারভীন।
‘চলো এগিয়ে যাই’ প্রকাশের পেছনে থাকা পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনয়শিল্পী আফসানা মিমি। তার সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে তিনি কবি শঙ্খ ঘোষের একটি কবিতার অংশবিশেষও পাঠ করেন।
শুরুতে সূচনা সংগীত পরিবেশন করেন অন্তরা রায়চৌধুরী। তার সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শেষেও তার গানের মধ্য দিয়ে ‘চলো এগিয়ে যাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সৌন্দর্যশিল্পে নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সংকলনের মাধ্যমে ‘চলো এগিয়ে যাই’ বইটি এই খাতে নারীদের অগ্রযাত্রার একটি দলিল হিসেবে সামনে এসেছে।