

রাজধানীতে মশা দমনে নতুন করে জৈব কীটনাশক ‘ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই)’ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এবার এ পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, দুইটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং দরদামসহ প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বিটিআই দেশে পৌঁছাবে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, আমদানির পুরো ফাইল প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিটিআই মূলত একটি জৈব ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক মশানাশক, যা মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর হলেও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ওপর কাজ করে না। এটি কোনো রাসায়নিক নয় বরং প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক একটি বায়োলজিক্যাল এজেন্ট।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, আগের মতো রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে, আর বিটিআই ব্যবহার করা হবে সহায়ক বা সম্পূরক হিসেবে। বিশেষ করে জলাশয়, নার্সারি, বাগান এবং ফুলের টবের মতো জায়গায় এটি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, খাল বা নর্দমার মতো দূষিত জায়গায় এটি খুব বেশি কার্যকর না হলেও মাছচাষের জলাশয়, উদ্ভিদসমৃদ্ধ পরিবেশ এবং টবের নিচের পানিতে এটি ভালো ফল দিতে পারে।
অতীতে রাজধানীতে একবার বিটিআই আনা হলেও সরবরাহ জালিয়াতির কারণে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এবার নতুন করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটিআই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।
তবে সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন কীটতত্ত্ববিদরা। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে এর কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, মিরপুর ও বনানীর ভাণ্ডারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে বিটিআই সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োগকারী কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও ডিএনসিসি বিটিআই আমদানি করেছিল, তবে সেই সময় সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এবার নতুনভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এটি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।