

দেশে বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলছে, আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হলে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অতীতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর অজুহাতে বাস ও লঞ্চের ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও পরবর্তীতে জ্বালানির দাম কমার পর যাত্রীরা তার সুফল পাননি।
তার দাবি, ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম এক লাফে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ১১৪ টাকা করা হলে তখন বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২২ শতাংশ এবং লঞ্চভাড়া প্রায় ৩২ শতাংশ বাড়ানো হয়। কিন্তু পরে ডিজেলের দাম ধাপে ধাপে কমে ১০০ টাকায় নামলেও বাস্তবে যাত্রীদের জন্য ভাড়া কমেনি।
সংগঠনটির মতে, সরকার কাগজে-কলমে কয়েক দফা বাসভাড়া সামান্য কমালেও দেশের অধিকাংশ রুটে যাত্রীরা সেই সুবিধা পায়নি। ভাড়া কমানো বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত তদারকিও হয়নি বলে অভিযোগ করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বিভিন্ন সময় পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হলেও যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
সমিতির অভিযোগ, সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি দেখিয়ে পরিবহন মালিকরা বাসভাড়া প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং লঞ্চভাড়া প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কিছু অসাধু স্বার্থগোষ্ঠী ও প্রশাসনের একটি অংশের সহযোগিতায় পরিবহন মালিকরা একতরফাভাবে ভাড়া বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই মূল্য ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ভাড়া নির্ধারণের আগে সরকারের উচিত যাত্রী প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অন্যথায় যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে বলেও সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।