
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্যদিকে তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারও আগে ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় গাজী নজরুলের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ছিল ১৯ বছর।
ঘটনার পর ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমের পাশাপাশি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুলকে দ্বিতীয় দফায়ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা।
এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলায় ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
সোমবার দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।