

রাজধানীজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না ফলে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক নগরজীবন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। কেউ ভোর থেকে, কেউ আগের রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
রায়েরবাজারের এক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী বলেন, সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলেও দুপুরেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, তবুও নিশ্চিতভাবে তেল পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও।
পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রভাব। বাসচালকরা সময়মতো তেল না পাওয়ায় রাস্তায় নামতে পারছেন না ফলে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও জানান, জ্বালানি সংকটে জরুরি রোগী পরিবহনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন পাম্প এলাকায় দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের অংশও দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে নগরজীবনে আরও বাড়ছে চাপ ও অস্থিরতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাও এর পেছনে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতি দেখা দেবে, যা নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানির অপচয় রোধ ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।