
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে যেকোনো এক পর্যায়ে এ সফর হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এটিই ছিল হুমায়ুন কবিরের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠকটিকে তিনি আন্তরিক, ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা হয়েছে। এসব সমস্যা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের জন্য যখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন কোনো এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। দুই দেশের মধ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য সময় বা তারিখ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে অনুকূল একটি অবস্থানে পৌঁছানোর পরই সফরের সময় ও তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে।
অর্থাৎ এখনো সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সফরের আগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কিছু বিষয় নিয়ে সমঝোতা ও অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে।
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি গুঞ্জনের ভিত্তিতে মন্তব্য করতে চান না; বরং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো মঙ্গলবার ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ভালো বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকের পর খুব শিগগিরই ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকার কথা সরাসরি উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে এসব চ্যালেঞ্জকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বলেই দেখছেন তিনি।
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই এখন মূল বিষয়।
এদিকে একই দিনে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ভারতীয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিল। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকারও বলে আসছে, উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলে দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
দুই দেশের সাম্প্রতিক যোগাযোগে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও এখনো সফরের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুকূল পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরের মঙ্গলবারের বক্তব্যেও সেই অবস্থানই উঠে এসেছে। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে পারস্পরিকভাবে অনুকূল অবস্থানে পৌঁছানোর পরই সফরের সময় নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসবে।
ফলে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের অগ্রগতি এবং আলোচনার ফলাফলের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।