শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিটি মানুষ চরিত্র, পরিবার এবং মানবিক মূল্যবোধের দর্পণ স্বরূপ-মিজানুর রহমান শিশুর কৌতূহল ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার বাড়ল লঞ্চভাড়াও ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি ধামরাইয়ে প্রেমিকার বাড়ি থেকে প্রেমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মা-মেয়ে আটক পূজার সঙ্গে শাহরুখের বন্ধুত্বের মুহূর্ত দেখে ভক্তদের প্রশংসার বন্যা ইউপি-পৌরসভাসহ ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে বসবে সোলার প্যানেল : মীর শাহে আলম ইরানকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের আর মাত্র এক ম্যাচ! মেসির বিদায়ী ম্যাচের জার্সিতে বিশেষ চমক মোরেলগঞ্জে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন কুড়িগ্রামে কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর : তিন প্রজন্মের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচন সংলাপ বন্ধ তেলের খরচই উঠছে না, গোলাপি বাসে প্রতিদিন লোকসান ধানমন্ডি লেক থেকে মার্কেটিং কনসালটেন্টের মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়িয়েও ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান : রিজভী বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি পুরোনো ছবি-ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি ঠেকাতে চট্টগ্রাম পুলিশের নজরদারি জ্বালানির পর বাসভাড়া বাড়ল, কিলোমিটারে ১৭ পয়সা
Notice :

সুদহার ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনে দোদুল্যমান স্বর্ণবাজার

কথাভিশন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন হয়েছে। বুধবারের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণের দামের স্বল্পমেয়াদি গতিপথ নির্ধারণে বর্তমানে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর পাশাপাশি মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থানও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। তবে এর বিপরীতে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজারে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামার পেছনে বিনিয়োগকারীদের সুদহার-সংক্রান্ত প্রত্যাশা বড় ভূমিকা রাখছে। উচ্চ সুদহার সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। কারণ, সুদের হার বাড়লে বন্ডসহ সুদ থেকে আয় করা বিভিন্ন বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

এদিকে মার্কিন ডলারও দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সাধারণত মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনার খরচ বেড়ে যায়। এতে স্বর্ণের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, স্বর্ণের দামের ওপর একদিকে শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ সুদহারের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ধরে রাখছে। ফলে বাজারে দুই ধরনের বিপরীতমুখী প্রভাব কাজ করছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করা কাঠামোগত বিষয়গুলো এখনো শক্তিশালী রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সাধারণত ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে সংঘাত প্রশমনের ইঙ্গিত এলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সময়ে জাতিসংঘকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এই পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির যেকোনো বড় পরিবর্তন স্বর্ণের বাজারেও দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে গত সপ্তাহে সুদহার বাড়ানোর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন।

তবে চলতি বছর সুদহার নির্ধারণকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ভোটাধিকার না থাকা কলিন্স ভবিষ্যতে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান করছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শুধু ফেডারেল রিজার্ভ নয়, সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে। ফলে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রানীতি কতটা কঠোর থাকবে, তা আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে।

উচ্চ সুদহার ও শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে চাপ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার বিষয়ে কিছু বিশ্লেষক এখনো ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকবে—এমন পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব্যাহত সোনা কেনার প্রবণতা স্বর্ণের বাজারে সহায়তা দিতে পারে। তাদের মতে, স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

অর্থাৎ, স্বল্পমেয়াদে সুদহার ও ডলারের গতিপথ স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে বাজারটির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বুধবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে এখন সুদহার, ডলারের শক্তি, মূল্যস্ফীতির গতিপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এই চারটি বিষয় বিশেষভাবে প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *