

ঢাকা শহরে হকার উচ্ছেদ এক পুরোনো এবং সমাধানহীন সমস্যা হিসেবে উঠে আসছে বারবার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হকার উচ্ছেদের জন্য একাধিক অভিযান চালানো হয়। তবে এসব অভিযান শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, হকাররা আবার আগের জায়গাতেই ফিরে এসেছেন। এই চিত্র শুধু উত্তর ঢাকা নয়, দক্ষিণ ঢাকাতেও একইভাবে পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের নির্দেশনায় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১ নম্বর, ১২ নম্বর এবং আগারগাঁও থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ করা হয়। তবে এক মাস যেতে না যেতেই আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের আমলে গুলিস্তান, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, লালবাগে অভিযান চালানো হলেও হকাররা আবার বসে যায় এসব স্থানে।
এটা নতুন নয় যে পুলিশের সঙ্গে হকারদের চাঁদাবাজি বা খেলা চলছে। বিশেষ করে, ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনের সময় গুলিস্তানে ২৮৫ দিন হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর সাঈদ খোকন আর কোনো বড় পদক্ষেপ নেননি। বর্তমানে হকাররা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বসে থাকলেও তাদের জায়গা নির্ধারণে কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ জানান, হকারদের জন্য একটি আইন তৈরি করার দাবি তারা সরকারের কাছে জানিয়েছেন। তার মতে, যদি হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি না হয় তবে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব নয়।
২০১৬ সালের ব্র্যাক ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩০ কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় তিন লাখেরও বেশি হকার কাজ করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক, পুলিশ ও প্রভাবশালীদের চাঁদা দিতে বাধ্য হন।
মিরপুর ১০ নম্বর থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হকারদের পুনরায় বসতে দেখা গেছে। এসব স্থানে কিছু হকার পলিথিন দিয়ে তাদের মালামাল ঢেকে রেখে ফুটপাতে বসেছেন।
কয়েকজন হকার জানান, তাদের উপার্জনের জন্য বাধ্য হয়ে ফুটপাতে বসতে হয়। কিছু হকার বলেন, তারা যদি একটি স্থায়ী স্থান পেতেন তবে এমন উচ্ছেদ অভিযান সহ্য করতে হতো না।
এদিকে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, হকারদের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি একটি বড় পরিসরে বৈঠক করার চিন্তা করছেন। যেখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।
একইভাবে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তারা হকারদের জন্য ছয়টি মাঠে বসার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন যাতে তারা সুনির্দিষ্ট সময়ে সেখানে বসতে পারেন।
ঢাকা শহরে হকারদের সমস্যা দীর্ঘদিনের তবে এখনও কোনো স্থায়ী সমাধান বের হয়নি। সিটি করপোরেশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে সেগুলি কখনওই স্থায়ী হতে পারেনি। হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজনীয়তা এখন সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।