

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নড়াইলের সাংবাদিক কাজী আশরাফ (৪৫) নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিকও আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের লোহাগড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, রোববার সকালে ব্যক্তিগত কাজে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভাঙ্গার মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি সড়কে পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দোলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে কাজী আশরাফ ও অনিক দুজনই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কাজী আশরাফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরে কাজী আশরাফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত মাহমুদুল হাসান অনিকের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা জানান, সকালে মনসুরাবাদ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই আরোহী আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সাংবাদিক কাজী আশরাফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নড়াইলে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
কাজী আশরাফের আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে গভীর শোক ও শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।