

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে চালানো এসব হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। তবে হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন ২১ তলা একটি ভবনে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ড্রোন হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কারণে সেখানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মেয়র সোবিয়ানিন অভিযোগ করেন, রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলেও হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদীয় নির্বাচন এটি। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন ও ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থনকারী দলগুলো অংশ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এসব হামলার ফলে রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি অংশ ব্যাহত হয়েছে এবং এর প্রভাব হিসেবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করার পর নতুন করে মস্কো এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল।
তবে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে ইউক্রেন সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।