

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে দেশের বিচারাঙ্গনে নারীদের অগ্রযাত্রা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ১২ জন নারী বিচারপতি। যারা বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
আইন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ একসময় খুবই সীমিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিস্থিতি বদলেছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, স্বাধীনতার আগে প্রথমবারের মতো বার-এট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন ব্যারিস্টার সালমা সোবহান। পরে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচিতি পান আইনজীবী রাবিয়া ভূঁইয়া।
আর দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। যিনি পরবর্তীতে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হলেও বিচারিক কার্যক্রমে নারীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ মিলিয়ে মোট ১২ জন নারী বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নারী আইনজীবী ছিলেন কর্নেলিয়া সোরাবজি। তিনি ১৯২৩ সালে বম্বে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৮৬৬ সালে জন্ম নেওয়া এই পথিকৃৎ নারী আইনজীবী ১৯৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার সালমা সোবহান ১৯৫৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পাকিস্তান আমলে প্রথম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পান। তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া এই বিশিষ্ট আইনজীবী ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় নারীদের অগ্রযাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগ—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
বর্তমানে আপিল বিভাগে একজন নারী বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন ১১ জন নারী বিচারপতি। তারা হলেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব, বিচারপতি কাজী জিনাত হক, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের, বিচারপতি মুবিনা আসাফ, বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা, বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী, বিচারপতি নাসরিন আক্তার, বিচারপতি সাথিকা হোসেন, বিচারপতি জেসমিন আরা বেগম, বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এবং বিচারপতি উর্মি রহমান।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচার ব্যবস্থায় নারীদের এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশের আইনি কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী করে তুলছে।
তবে এখনো দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক পদে কোনো নারী নিয়োগ না পাওয়ায় ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রেও নারীদের নেতৃত্ব দেখার প্রত্যাশা করছেন অনেকে।