

ঢাকার ধামরাইয়ে দুই যুগেরও অধিককাল ধরে চলছে প্রায় দুই শতাধিক ইটভাটা, যার অধিকাংশই অবৈধভাবে গড়ে উঠা। এসব ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ইট তৈরির মাটির চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর বিলীন হচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি। নানা কৌশলে বিশেষ করে মাছ চাষের জন্য পুকুর বা জলাধার তৈরির অনুমতি নিয়ে শত শত একর কৃষি জমিকে জলাধার তৈরির নামে গ্রাস করেছে এবং করছে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীরা। যে কারণে ধামরাইয়ের কৃষি আজ হুমকীর মুখে। শুধু ইট ভাটা নয়, অপরিকল্পিত এবং অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা শিল্পকারখানা গুলোও ধামরাইয়ের কৃষি জমি গ্রাস করছে, যে কারণে এক সময় গ্রামীন জনপদে দিগন্ত বিস্তৃত কৃষি জমি দেখা গেলেও সেই কৃষি জমির পরিমান ক্রমেই সংকূচিত হয়ে আসছে।
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ লোকের বসবাস। এই উপজেলাটির একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলা হিসেবে পূর্বপরিচিতি রয়েছে। অবৈধ ইটভাটা, অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা ও নগরায়নের ফলে এ উপজেলার কৃষি জমি এখন হুমকির মুখে। ফলে খাদ্য উদ্বৃত্তের এই উপজেলা তার পূর্বপরিচিতি হারিয়ে খাদ্য ঘাটতির উপজেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে বলে আশংকা করছেন অনেকে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে ধামরাইয়ে ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৪লাখ ১২হাজার ৪১৮জন তা বেড়ে ২০২২সালে এসে দাড়িয়েছে ৫লাখ ১৭হাজার ১৩৫জন। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬লাখে। এক দিকে যেমন জনসংখ্যা বাড়তেছে অন্য দিকে কৃষি জমির পরিমান দিনদিন কমছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলায় ২০১৫-১৬ সালে মোট কৃষি জমির পরিমাণ ছিল আবাদি ও অনাবাদি মিলে ২৩ হাজার ৮০০ হেক্টর। ২০২০সালে সেই জমির পরিমাণ কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২৩হাজার ৫৬৫ হেক্টরে। ২০২৫সালে কৃষি জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৬০হেক্টরে। গত ৮ বছরে জমির পরিমাণ কমেছে ৫৪০হেক্টর।
এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, কৃষিজমি রক্ষায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। কৃষি জমিতে ইটভাটা, কল-কারখানা এবং পুকুর খনন করা যাবে না। কৃষিজমি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। পরিবেশ রক্ষায় কৃষি জমির ভূমিকা অপরিহার্য।