

সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে নাগরিকদের করণীয় নিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের মন্ডলভোগ উচ্চ বিদ্যালয়ে কটিয়াদী পিএফজির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কটিয়াদী পিএফজি কো-অর্ডিনেটর এবং পাড়া মন্ডলভোগ কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, চান্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ আশেক, কটিয়াদী পিএফজি সদস্য, মন্ডলভোগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম ভূইয়া (গঙ্গা), মো. শামসুদ্দিন, মন্ডলভোগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম, অভিভাবক সদস্য হাজী মো. উসমান গনি (মশাল), হাজী মো. শিবুল মিয়া, সিনিয়র শিক্ষক শাহিদুর রহমান (মানিক), শাহীন সওদাগর, নিপা জামান, শিমু রানী দাস, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মো. বিলাত হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার এবং মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আ. হালিম ভূঞাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সহনশীল সমাজ গঠনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসে ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে এসব ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে যেন সামাজিক বিভেদ বা সংঘাত তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারা বলেন, মতের পার্থক্যকে সম্মান করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও মতাদর্শের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করা শুধু সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্ব নয়; সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকেও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিভেদ ও সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক আস্থা, আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এজন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে।
তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে, ততই সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় হবে।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কটিয়াদীতে শান্তি, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।