

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের প্রশংসা করে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল দূরদর্শিতা, দৃঢ় প্রত্যয় এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য দিকনির্দেশনা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তার ভাষণ বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান ও মর্যাদা আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনবার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘৩-আর’ কৌশলের কথাও উল্লেখ করেছেন বলে রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এর পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তারও বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তিনি ভাষণে তুলে ধরেছেন।
জাতিসংঘকে পারস্পরিক সমঝোতাভিত্তিক বিশ্বসমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন তারও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
সংঘাতপূর্ণ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আলোচনা, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে, সেটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের কথাও অভিনন্দনবার্তায় তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়।
অভিনন্দনবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার বিদেশ সফর নিরাপদ ও সফল হোক এ কামনাও জানান তিনি।