

রাজধানীর মিরপুর-১০, সেনপাড়া ও তেজগাঁও এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে অবৈধ দোকান, হকার ও বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। মিরপুর-১০ এলাকা থেকে শুরু হয়ে অভিযানটি ওসমানী হল হয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় সড়ক ও ফুটপাতের দুই পাশে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন দোকান, হকারদের বিভিন্ন স্থাপনা এবং অন্যান্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া স্থাপন করা বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড ও ইউনিপোল সাইনও অপসারণ করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ফুটপাতের বেশ কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়।
উচ্ছেদ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর আনসার ব্যাটালিয়ন (৪১ বিএন)-এর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাটালিয়নের পরিচালক মো. জানে আলম সুফিয়ানের নির্দেশনায় কোম্পানি কমান্ডার মো. ইমাম মেহেদির নেতৃত্বে ৩১ জন আনসার সদস্য অভিযানে মোতায়েন ছিলেন।
পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ১৮ জন সদস্যও অভিযানে অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া উচ্ছেদ কার্যক্রম দুপুর ২টার দিকে শেষ হয়। অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দখলমুক্ত করা এলাকায় যাতে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
দীর্ঘ সময় পর ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাদের মতে, অবৈধ দোকান ও স্থাপনার কারণে অনেক জায়গায় ফুটপাত ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো পথচারীদের।
অভিযানের পর ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
ডিএনসিসির উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি আনসার ও পুলিশের সদস্যদের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নগরীর সড়ক ও ফুটপাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।