

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রবেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পথে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। শুক্রবারের ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে জিডি ও মামলা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রাত থেকেই চেকপোস্ট পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এসব ঘটনায় মোট ৪৭টি মামলা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রমনা বিভাগ থেকে ৩০ জন, লালবাগ থেকে ৩৪, ওয়ারী থেকে ৬৪, মতিঝিল থেকে ৭৬, তেজগাঁও থেকে ৯২, মিরপুর থেকে ১২০, গুলশান থেকে ৩৭, উত্তরা থেকে ৪৬ এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, তিনটি চাপাতি ও পাঁচটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, ৫৩টি লোহার পেরেক, ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে তিন বোতল বিদেশি মদ, ২০ ক্যান বিয়ার, একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এডিসি নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।