
বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট ধরনের বিশেষ ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তালিকার বাইরে থাকা দেশগুলো থেকে একই ধরনের ওষুধ বা উপকরণ আমদানিতে পণ্যের মূল্যের সমপরিমাণ শুল্ক কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুল্ক সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর তালিকা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার থেকেই তালিকাভুক্ত দেশগুলো ছাড়া অন্যান্য দেশের নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে পেটেন্ট সুরক্ষিত ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োলজিকস এবং সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে ১০০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশটির অভ্যন্তরে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ উৎসাহিত করাই এই শুল্কনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, সেল থেরাপি ও জিন থেরাপি।
এ ছাড়া অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস এবং প্রাণীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট উপকরণের ক্ষেত্রেও তালিকাভুক্ত দেশগুলো শুল্ক সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকা দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।
মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তির কারণে এই বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তি সম্পাদিত হলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের বিশেষ ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ রপ্তানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শুল্ক সুবিধার সুযোগ তৈরি হয়েছে।