
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় আগামী বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার তথ্য অনুযায়ী, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ গত ৫ অক্টোবর চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে যুক্তি উপস্থাপন করে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে নিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা পরে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলাটির যুক্তিতর্ক আগেও শেষ হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ নতুন কিছু তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় উভয় পক্ষকে পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে উসকানি, সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে হানিফের ভূমিকা ছিল। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের দাবি, হানিফ বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন দমনে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনও ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসিকিউশন আরও দাবি করেছে, একই ধরনের অপরাধে আওয়ামী লীগের অন্য কয়েকজন শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় হানিফের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সাজা প্রত্যাশা করছে তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার পরবর্তী বিচারিক অবস্থান স্পষ্ট হবে।