
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন মিললে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
শনিবার সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ফিজিক্স টেস্টের প্রতিবেদনও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করবে ইউনিটটি এবং শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম।
জাহেদুল হাসান আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধীরে ধীরে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপের সফল সমাপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ সফর করেছে রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এবং প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পর্কে অবহিত করে।
রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ায় প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে নির্ধারিত কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া জরুরি।