
ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক পদ্ধতি, বিশেষ করে ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির অগ্রগতি এবং ব্রেস্ট ক্যানসার ব্যবস্থাপনার নতুন দিক নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে চেন্নাইয়ের টেইনমপেটের অ্যাপোলো হাসপাতাল ও ঢাকার অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডি। গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রায় ১০০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চিকিৎসক ও কনসালট্যান্ট অংশ নেন।
অক্টোবর মাসজুড়ে ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে র্যালি ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সিএমই প্রোগ্রামে ক্যানসার চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে দুটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রথমটির বিষয় ছিল ‘বিয়ন্ড কেমোথেরাপি: ব্রেস্ট, ফুসফুস ও কোলোরেক্টাল ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির ক্রমবিকাশ’। দ্বিতীয় সেশনে আলোচনা হয় ‘ইভলভিং প্যারাডাইমস ইন দ্য ম্যানেজমেন্ট অব ব্রেস্ট ক্যানসার’ বিষয়ে।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চেন্নাইয়ের টেইনমপেটের অ্যাপোলো হাসপাতালের অভিজ্ঞ মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. নিরঞ্জন বিজয়ারাঘবন এবং গ্যাস্ট্রো, গাইনি ও ব্রেস্ট অনকোলজিস্ট ডা. ঊষা গৌতম মেহতা। অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির পক্ষে বক্তব্য দেন অনকোপ্লাস্টিক ব্রেস্ট সার্জন ডা. আলি নাফিসা।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন চিকিৎসকদের সর্বশেষ চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি ক্যানসার নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগী ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রও প্রসারিত করে। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রচলিত কেমোথেরাপির পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চিকিৎসকদের পেশাগত জ্ঞান হালনাগাদে সহায়ক হতে পারে।
এই সিএমই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জেএমআই স্পেশালাইজড হসপিটাল পিএলসি এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হাসপাতালের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলে জানানো হয়। অ্যাপোলো হাসপাতাল নেটওয়ার্কের একাধিক দেশে ৭৬টিরও বেশি হাসপাতাল ও ৭০০টিরও বেশি ক্লিনিক পরিচালনার তথ্যও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডি বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, আইসিইউ, এইচডিইউ, এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিস, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ওয়ার্ড ও কেবিন, রেডিওলজি ও ইমেজিং, বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, বাংলাদেশি রোগীদের যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়; বরং দেশের মধ্যেই তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে মেডিকেল ট্যুরিজম আকৃষ্ট করার লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির কার্যক্রমের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি বহির্বিভাগের (ওপিডি) রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বিভাগে (আইপিডি) সেবা পেয়েছেন ৩ হাজার রোগী এবং ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশনের হার এক শতাংশের কম বলে জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসকদের জ্ঞান বিনিময়, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির চর্চা এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘এক্সপার্টিজ, ক্লোজার টু ইউ’ এই অঙ্গীকার সামনে রেখে দেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডি।