
কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় অভিযুক্ত চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হয়েছেন। তারা হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিবিএসএর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ের এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর একই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। অভিযানে পাওয়া নথিপত্র, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের আওতায় থাকা ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা, ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনে সহযোগিতা এবং কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অভিবাসন-সংশ্লিষ্টদের মতে, কানাডার ভিসার আবেদনে জাল নথি কিংবা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের নিষেধাজ্ঞাও হতে পারে, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর যা নির্ভর করে।
তারা আবেদনকারীদের ভিসার জন্য জমা দেওয়া সব তথ্য ও নথির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনে কী তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আবেদনকারীর নিজের সচেতন থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে যাচাই ছাড়াই কাউকে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি আবেদন পর্যালোচনার আওতায় এলেও এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া মানেই তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।