
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশ করে।
চালানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে চলতি মাসের ৩ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের একটি চালান এবং ২৭ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কার্যক্রমের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি আনার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অংশ।
গত ১১ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
২০১৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে রূপপুর কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।